কম্পিউটারের প্রকারভেদ ও প্রত্যেক প্রকার কম্পিউটারের বর্ণনা 

 

কম্পিউটারের প্রকারভেদ সাধারণত কম্পিউটারের প্রয়োগক্ষেত্র, কাজের ধরণ, প্রকৃতি, আকার, ক্ষমতা, দাম ও ব্যবহারের গুরুত্বের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। নিম্নে পর্যায়ক্রমে কম্পিউটারের প্রকারভেদ ও প্রত্যেক প্রকার কম্পিউটারের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করা হল।

প্রয়োগক্ষেত্রের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটারের প্রকারভেদ! প্রয়োগক্ষেত্রের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটারকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ

সাধারণ কম্পিউটার
বিশেষ কম্পিউটার


সাধারণ কম্পিউটারঃ সাধারণ কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরণের প্রোগ্রাম (Program) সংরক্ষিত থাকে। এতে সহজেই বিভিন্ন প্রোগ্রাম সংরক্ষণ, পরিবর্তন বা মুছে ফেলা যায়। ব্যবহারকারী প্রয়োজন মতো ভিন্ন ভিন্ন প্রোগ্রাম চালিয়ে কাজ করতে পারে।

বিশেষ কম্পিউটারঃ
বিশেষ কম্পিউটারকে কেবলমাত্র একটি বিশেষ বা নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি করা হয়। এই কম্পিউটারে কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। সংরক্ষিত প্রোগ্রামটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা থাকে বলে একে সহজে পরিবর্তন করা যায়না।

কাজের ধরণ ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে কম্পিউটারের প্রকারভেদ! কাজের ধরণ ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার প্রথমত ৩ প্রকার। যথাঃ

অ্যানালগ কম্পিউটার (Analog Computer)
ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer)
হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer)


অ্যানালগ কম্পিউটার
(Analog Computer): অ্যানালগ কম্পিউটার বর্ণ ও অংক সংকেতের পরিবর্তে এনালগ বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবহার করে। রোদ, তাপ, উত্তাপ, চাপের জন্য সৃষ্ট বৈদ্যুতিক তরঙ্গকে অ্যানালগ কম্পিউটার ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে এবং ফলাফল সাধারণত প্লটার দিয়ে অংকন করে। রাসায়নিক, পেট্রোলিয়াম ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে অ্যানালগ কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।



ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer): ডিজিটাল কম্পিউটার বর্ণ বা অংক সংকেতের মাধ্যমে তথ্যগ্রহণ করে থাকে এবং ফলাফল প্রকাশ করে। এই কম্পিউটার নির্ভুলভাবে গাণিতিক ও যুক্তিগত কাজ সম্পন্ন করে । এবং ০ ও 1 বাইনারী সংখ্যার উপর নির্ভর করে তথ্য বা উপাত্ত সংগ্রহ করে।



হাইব্রিড কম্পিউটার
(Hybrid Computer): অ্যানালগ ও ডিজিটাল এই দুই ধরণের কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত কম্পিউটারকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলে। বৈজ্ঞানিক সমাধানের ক্ষেত্রে হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।

আকার, ক্ষমতা, দাম ও ব্যবহারের গুরুত্বের ভিত্তিতে কম্পিউটারের প্রকারভেদ! আকার, ক্ষমতা, দাম ও ব্যবহারের গুরুত্বের ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটারকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ

সুপার কম্পিউটার (Super Computer)
মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer)
মিনি কম্পিউটার (Mini Computer)
মাইক্রো কম্পিউটার (Micro Computer)


সুপার কম্পিউটার (Super Computer): অত্যন্ত শক্তিশালী ও দ্রুতগতি সম্পন্ন কম্পিউটারকে সুপার কম্পিউটার বলে। এই কম্পিউটার সাধারণত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণঃ Cray-1, Cray X-MP, Cyber-205 উল্লেখযোগ্য সুপার কম্পিউটার।



মেইনফ্রেম কম্পিউটার
(Mainframe Computer): মেইনফ্রেম কম্পিউটার প্রধানত গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় অ্যাপ্লিকেশনের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটা জনসংখ্যা, শিল্প, ভোক্তা পরিসংখ্যান, এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স পরিকল্পনা এবং লেনদেন প্রক্রিয়াজাত করণে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণঃ Univac1100/01, IBM 6120, IBM 4341, NCR N8370, Data General CS30 উল্লেখযোগ্য মেইনফ্রেম কম্পিউটার।

মিনি কম্পিউটার
(Mini Computer): যে কম্পিউটার টার্মিনাল লাগিয়ে প্রায় এক সাথে অর্ধ শতাধিক ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে তাই মিনি কম্পিউটার। এটা শিল্প-বাণিজ্য ও গবেষণাগারে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। উদাহরণঃ PDP-11, IBMS/36, NCRS/9290, IBM 9375 উল্লেখযোগ্য মিনি কম্পিউটার।

মাইক্রো কম্পিউটার (Micro Computer): মাইক্রো কম্পিউটারকে পার্সোনাল কম্পিউটার বা পিসি বলে অভিহিত করা হয়। ইন্টারফেস চিপ (Mother Board), মাইক্রো প্রসেসর, সিপিইউ, র‍্যাম, রম, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি সহযোগে মাইক্রো কম্পিউটার গঠিত হয়। দৈনন্দিন জীবনের সর্বক্ষেত্রে এ কম্পিউটারের ব্যবহার দেখা যায়। উদাহরণঃ IBM PC, TRS80, APPLE64, MACHINTOSH উল্লেখযোগ্য মাইক্রো কম্পিউটার।

মাইক্রো কম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটারকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ

সুপার মাইক্রো কম্পিউটার (Super Micro Computer)
ডেস্কটপ কম্পিউটার (Desktop Computer)
ল্যাপটপ কম্পিউটার (Laptop Computer)


সুপার মাইক্রো কম্পিউটার (Super Micro Computer): সুপার মাইক্রো কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী মাইক্রো কম্পিউটার। এর অন্য নাম ওয়ার্ক ষ্টেশন। এই কম্পিউটারের ক্ষমতা যেকোন মিনি কম্পিউটারের কাছাকাছি হওয়ায় এগুলো মিনি কম্পিউটারের স্থান দখল করে নিচ্ছে।

ডেস্কটপ কম্পিউটার
(Desktop Computer): ডেস্কটপ কম্পিউটার হল একটি ব্যক্তিগত কম্পিউটার যা দৈনন্দিন কাজে একটি মাত্র জায়গায়, সাধারণত ডেস্ক বা টেবিলের উপর রেখে ব্যবহার করা যায়। ডেস্কটপ কম্পিউটারে সাধারণত মনিটর, কিবোর্ড, মাউস এবং একটি সিপিইউ বা বাক্স থাকে। উদাহরণঃ আইবিএম পিসি, এ্যাপল মেকিনটোশ।


ল্যাপটপ কম্পিউটার (Laptop Computer): ল্যাপটপ কম্পিউটার হল কম্পিউটারের বহনযোগ্য সংস্করণ, যা সব যাইগা তে কেরি করা যাই ,সব জানিগাতে নিয়ে গিয়ে ব্যাবহার করা যায়।


ল্যাপটপ কম্পিউটারকে আবার দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়। যথাঃ

নোট বুক (Note Book)
পিডিএ (PDA)

নোট বুক (Note Book): ছোট ডায়রী ও নোটবুক আকৃতির ল্যাপটপ। এগুলোকে পাওয়ার বুক বলা হয়।

পিডিএ (PDA): সাবনোট বুক পিডিএ (Personal Digital Assistance) এক ধরণের ল্যাপটপ।